প্রতিদিন রাস্তায় অনেক ট্যাংকার বা লরি দাহ্য, বিষাক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ে যাতায়াত করে। এই গাড়িগুলো চেনা, তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখা এবং অন্যদের সতর্ক করা — এই কয়েকটি সহজ অভ্যাস একটি বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
গাড়ির গায়ে লাগানো রঙিন হীরক-আকৃতির (ডায়মন্ড) প্রতীকগুলো বলে দেয় ভেতরে কী ধরনের রাসায়নিক আছে। এই প্রতীকগুলো চিনে রাখলে দূর থেকেই বিপদের ধরন বোঝা সহজ হয়:
ঝাঁকুনি, তাপ বা ঘর্ষণে বিস্ফোরিত হতে পারে
সহজেই আগুন ধরে যায়
শ্বাসে, স্পর্শে বা গ্রহণে মারাত্মক ক্ষতিকর
ধাতু বা ত্বকের ক্ষয় ঘটায়
আগুনকে আরও তীব্র করে তোলে
চাপযুক্ত গ্যাস বহন করছে
দূর থেকেই এই গাড়িগুলোকে আলাদাভাবে চেনা যায়, যাতে কাছাকাছি আসার আগেই সতর্ক হওয়া যায়। নিচের চিহ্নগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক দেখলেই বুঝবেন গাড়িটি সাধারণ পণ্যবাহী নয়:
যদি এই ধরনের কোনো গাড়ি দুর্ঘটনার পর থেমে থাকে, তবু তার সতর্কীকরণ আলো জ্বলতে থাকার কথা — যাতে দূর থেকে আসা অন্য গাড়িও তা বুঝতে পারে।
রাসায়নিক বাহী ট্যাংকার সাধারণ গাড়ির চেয়ে আলাদাভাবে চলে — এগুলো থামতে বেশি জায়গা নেয়, মোড় ঘোরার সময় বেশি জায়গা লাগে, আর ভেতরের তরল রাসায়নিকের কারণে হঠাৎ ভারসাম্য হারাতে পারে।
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ফাঁকা জায়গা রেখে চলুন, যাতে হঠাৎ ব্রেক কষলেও ধাক্কা এড়ানো যায়।
ব্রিজ, উড়ালপুল বা তীক্ষ্ণ বাঁকের কাছে এই ধরনের গাড়িকে ওভারটেক না করাই ভালো।
ট্রাফিক সিগন্যাল বা জ্যামে এই গাড়ির ঠিক পাশে বা পেছনে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকাই নিরাপদ।
যদি সামনের ট্যাংকার দুর্ঘটনায় পড়ে, তবে গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ দূরত্বে অপেক্ষা করুন এবং নিজে এগিয়ে গিয়ে সাহায্য করতে যাবেন না — জরুরি বিভাগের জন্য অপেক্ষা করুন।
শুধু নিজে সাবধান থাকলেই হবে না — আশেপাশের মানুষকেও সতর্ক করা এই সচেতনতারই একটি অংশ:
পেছনের গাড়িচালককে হেডলাইট বা হর্নের মাধ্যমে সামনে বিপজ্জনক গাড়ি থাকার ইঙ্গিত দিন।
পরিবার, প্রতিবেশী বা সহপাঠীদের এই চিহ্নগুলো চিনিয়ে দিন, যাতে তারাও নিজে থেকে সতর্ক থাকতে পারে।
"বিপজ্জনক রাসায়নিক যান চলাচল করছে", "নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন" জাতীয় রাস্তার পাশের সাইনবোর্ডে মনোযোগ দিন।
স্কুল বা হাসপাতালের কাছাকাছি এই ধরনের গাড়ি দেখলে শিশু ও রোগীদের নিরাপদ দূরত্বে রাখুন।
অনেক জায়গায় দাহ্য বা বিপজ্জনক রাসায়নিক বহনকারী গাড়ি স্কুল-কলেজ-হাসপাতালের ব্যস্ত সময় (সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা) এড়িয়ে, রাতের দিকে বা ভোররাতে নির্দিষ্ট রুটে চলাচল করার নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করে। তাই —
রাতে বা ভোরে হাইওয়ে বা শিল্প এলাকার কাছ দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় এই ধরনের যানবাহনের উপস্থিতি সম্পর্কে বাড়তি সচেতন থাকুন।
ভারী বৃষ্টি, কুয়াশা বা ঝড়ের সময় এই গাড়িগুলোর চলাচল কমে যাওয়ার কথা থাকলেও, রাস্তায় দেখা গেলে আরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখুন — কারণ এই অবস্থায় ব্রেক করতে বেশি সময় লাগে।